রায়পুরে দুই ইউপির সীমানা বিরোধ তুঙ্গে আবারও সংঘর্ষের আশংকা

Ads
মোঃ সৈয়দ আহম্মদ রায়পুর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষীপুরের রায়পুরে বামনী ও সোনাপুর ইউপি সীমানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুঠিরপোল এলাকায় বিবাদমান দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বামনী ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ জহির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বামনী ও চর বগা মৌজা নিয়ে ওই এলাকার জহির গং ও আব্দুল আলী গংদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধে এ উত্তেজনার সূত্রপাত।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৭ থেকে বামনী মৌজার শামছুদ্দিন ভুঁইয়া,  হারুনুর রশীদ জহির গংদের সাথে সংলগ্ন চরবগা মৌজার ইমাম হোসেন, আব্দুল আলী গংদের মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মৌজা ম্যাপ, ডিএস, আরএস রেকর্ডসহ সকল কাগজপত্রে সরকারি পাকা সড়কটির অর্ধেক বামনী ও অর্ধেক চরবগা মৌজায় পড়লেও কোনো কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও চরবগার লোকজন বামনীর জমি নিজেদের দাবি করে বার বার সড়ক অতিক্রম করে বিরোধের সৃষ্টি করে আসছে। শামছুদ্দিন ও হারুনসহ ২৫ গ্রামবাসী ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করলে কানুনগো দু’মৌজার সীমানা সঠিক আছে এবং সরকারি সড়কটি অর্ধেক-অর্ধেক অংশ দ্বারা দু’ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারিত আছে মর্মে প্রতিবেদন দেন। একই বিষয়ে ২০১৮ সনে সহকারী কমিশনারও (ভূমি) একই রকম প্রতিবেদন প্রদান করেন। চরবগা মৌজার লোকজন সীমানা অতিক্রম করে বামনী মৌজায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। উপজেলায় কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে হয়রানির শিকার বামনীর লোকজন ২০১৯ সনে জেলা প্রশাসক বরাবরও আবেদন করেন। সেখানে শুনানি শেষে আবারও রায়পুরের ইউএনও’র কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৯ সনের ২৪ জুলাই দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও মীমাংসা হয়নি। এরই মাঝে বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল আলী গংদের হামলায় ইউপি সদস্য ও তার ছোট ভাই জাবেদ হোসেন গুরুতর জখম হন। শনিবার দুপুরে হারুন গংরা তাদের জমির দোকান ভিটিতে বালু ভরাট করতে গেলে আব্দুল আলী গংরা লোকজন নিয়ে বাঁধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। কাজে হাত দিলে বামনীর লোকজনকে প্রাণে হত্যারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আলী জানান, সড়কের পরেও তাদের চরবগা মৌজার জমি আছে। কিন্তু একাধিকবার সরকারি পরিমাপে ও মৌজা ম্যাপে তাদের জমি রাস্তার পশ্চিম অংশে সঠিক আছে বললে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী ও সোনাপুরের চেয়ারম্যান এ্যাড. ইউসুফ জালাল কিসমত বলেন, মৌজার সীমানা বিরোধে দুই পক্ষ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছিলো। কিন্তু কোনো পক্ষই ছাড় দিচ্ছে না। এখন আদালতে মামলা হয়েছে তাই ওখানেই সিদ্ধান্ত হবে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, মৌজার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে উভয় পকে নিয়ে বৈঠক বসা হয়েছিলো। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।
Ads
আরও পড়ুন
Loading...