ফেনী শহরের নিজ বাড়ীতে অবস্থানকালীন হামলার অভিযোগে জয়নাল হাজারীর সংবাদ সম্মেলন

Ads
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে,১৪ আগস্ট  (শুক্রবার) ফেনী পৌর শহরস্থ মাষ্টার পাড়া শৈল কুটির নামক নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছেন,আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ফেনী-২ আসনের বর্তমান সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন হাজারী।
একসময় কার ফেনীর মুকুটহীন সম্রাট নামে খ্যাত ফেনীর জয়নাল হাজারী তৎকালীন ২০০৬ সালে ফেনী-২ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ট আসন লাভ করায় সরকার গঠণ করলে,জয়নাল হাজারী সরকার দলীয় এমপি হিসেবে ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের ৫ বছর মেয়াদী ক্ষমতাকালীন সময় ফেনীর জয়নাল হাজারী গোটা জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।একপর্যায় ফেনীর জয়নাল হাজারী ফেনীতে স্টিয়ারিং কমিটি নামে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের নিয়ে একটি বাহীনি গঠন করেন।ওই বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জয়নাল হাজারী গোটা জেলায় চাঁদাবাজী,টেন্ডারবাজী,মুক্তিপণ দাবী,ভূমি দখল,খুন,গুম রাহাজানিসহ হেন কোন অপরাধ মূলক কাজ নেই যা তিনি করান নি।ওই সময় স্টিয়ারিং বাহিনীর তান্ডবে পুরো জেলার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছিল।সেই সময় ফেনীর সাধারণ মানুষসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা বলতে কোন অধীকার ছিলোনা।এরি মধ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ হলে, ওই সময়ে সংবিধানে পাশ করা আইনের আওতায় আওয়ামীলীগ তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।২০০১ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারাধীন ফেনীর সাবেক জেলা প্রশাসক সোলাইমান হঠাৎ একরাতে যৌথ বাহিনী নিয়ে,ফেনীর অঘোষিত মুকুটহীন সম্রাট জয়নাল হাজারীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গোপনে শহরের মাষ্টার পাড়ায় সাঁড়াসী অভিযান চালানোর জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে,অভিযানে বের হওয়ার মুহুর্তে ওই অভিযানে থাকা প্রশাসনের অসাধু (আর্থিক সুবিদা গ্রহণকারী হাজারীর অপকর্মের কোন এক সহযোগী) জয়নাল হাজারীকে গ্রেপ্তারে গোপন অভিযানের সংবাদটি দ্রুত পৌঁছে দিলে,অপ্রস্তুত হাজারী নিজ বাসায় রক্ষিত বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র,গুলি ও গোলা বারুদ রেখে দ্রুত নিজের জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
একসময় জয়নাল হাজারী আত্নসর্মপন করে দীর্ঘ বছর জেলখেটে পুণঃরায় ফেনী এলেও আর স্থায়ী হতে পারেন নি।এতদিনে ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ রাজনীতির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ চলেযায়,ফেনী সদর আসনের পরপর দুই বারের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর হাতে।বর্তমানে ফেনী জেলাব্যাপী নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশেই চলছে সরকার দলের রাজনীতি।জয়নাল হাজারী ফেনী এসে আওয়ামী রাজনৈতীক অঙ্গনে স্থায়ী হতে না পারায়,সেই থেকে দীর্ঘ বছর যাবৎত ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ স্বদলীয় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে।গত কয়েক বছরে ফেনীতে আওয়ামীলীগের স্বদলীয় দুই গ্রুপের মধ্যে একাধীকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ফেনী ত্যাগের পর থেকে জয়নাল হাজারী দীর্ঘ বহু বছর যাবৎত জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায় দলের কোন পদ পদবী না পাওয়ায় তিনি দীর্ঘ বছর নিজের বাড়ীতে আসতে পারেন নি।সাম্প্রতিক আওয়ামীলীগ দলীয় প্রধান জয়নাল হাজারীকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মনোনীত করায়,হাজারী  দলীয় প্রধানের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ বছর পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে গত ৩১ জুলাই ফেনী শহরের মাষ্টার পাড়ায় শৈল কুঠির নামক নিজ বাড়ীতে এসে কয়েক ঘন্টা অবস্থান করেন।ওই দিন জয়নাল হাজারী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদেরকে ১৫ আগস্ট ফেনীতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করতে আসবেন বলে, কর্মসূচি ঘোষনা করে অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে তাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে যান।ফেনীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জয়নাল হাজারীর জাতীয় শোক দিবস পালনে কর্মসূচি ঘোষনা করার পর,তার স্বদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফেনী-২ সদর আসনের এমপি ও ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী নিজের ব্যক্তিগত সফরে বর্তমানে লন্ডন অবস্থান করছেন।
পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী জয়নাল হাজারী ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) ঢাকা থেকে এসে তার ফেনী শহরের নিজ বাড়ী শৈল কুঠিরে অবস্থান করছেন।তিনি বাড়ীতে অবস্থানকালীন নাকি তার বাড়ী ও বাড়ীর আঙ্গিনায় মুজিব উদ্যানে স্বদলীয় বিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।হামলা পরবর্তী জয়নাল হাজারী এই হামলার প্রতিবাদে ১৪ আগস্ট রাতে তার বাস ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল হাজারী বলেন,তিনি বাড়ীতে অবস্থানকালীন তার স্বদলীয় প্রতিপক্ষের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী পৌর কাউন্সিলর খোকন হাজারী নাকি দুপুর থেকে পরিকল্পিত ভাবে অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জ্বিত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে,পুরাতন জেলখানা সংলগ্ন কানন সিনেমা হল ও তার অফিসের সামনে রাস্তা দখল করে চেয়ার পেতে বসে রয়েছে।মাগরিবের আজান পূর্ব কাউন্সিলর খোকন হাজারী,জিয়াউল আলম মিস্টার,সোনাগাজী পৌর মেয়র খোকন,একই উপজেলার কোট রিপন ও দিদারুল আলম রতনের নের্তৃত্বে নাকি সন্ত্রাসী বাহিনীটি জয়নাল হাজারীকে খুন করার উদ্দেশ্যে তার বাড়ীসহ বাড়ীর আঙ্গিনায় মুজিব উদ্যানে বসে থাকা তার দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।হামলাকালীন তাৎক্ষণিক পুলিশ,ডিবি ও র্যাব এসে যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতো তাহলে হয়তো প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আমাকে খুন করে পেলতো।সংবাদ সম্মেলনে এইসব অভিযোগ করেন,একসময় কার ফেনীর অঘোষিত মুকুটহীন সম্রাট জয়নাল হাজারী।
Ads
আরও পড়ুন
Loading...