গলাচিপায় মাদ্রসায় নিয়োগ বাণিজ্যে ৩লাখ টাকা আদায়, সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

Ads
গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া এলেমাবাদ সালেহীয়া দাখিল
মাদ্রাসার আয়া পদে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারসহ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নিয়োগদানের আগে
৩ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের একটি কথোপকথন (অডিও রেকর্ড) ফাঁসের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বড়গাবুয়া এলেমাবাদ সালেহীয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদার ও মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাঈদ খা, চাকরি প্রত্যাশী মোঃ মনিরুল ইসলামের স্ত্রী
মোসাঃ লুৎফা বেগম প্রায় ৩০ মিনিটের অডিও রেকর্ডে ৩লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের স্পষ্ট কথোপকথন এখন এলাকার মানুষের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে।
শুধু মাদ্রাসার সভাপতিই নন, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা সফিকুর রহমানের রিরুদ্ধেও
চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি প্রত্যাশী মোসাঃ লুৎফা বেগম চাকরি এবং ৩লাখ টাকা না পেয়ে গলাচিপা
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদার, সুপার সফিকুর রহমান ও শিক্ষক আবু সাঈদ এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-সি, আর নং-৩৩০/২০।
অডিও রেকডিং ও সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা গেছে, বড়গাবুয়া এলেমাবাদ সালেহীয়া দাখিল মাদ্রাসার আয়া পদে দরখাস্ত আহ্বান করে মাদ্রাসার কতৃর্পক্ষ। আয়া পদের বিপরীতে বেশ কিছু নারী ও পুরুষ আবেদন করেন। এরপর মাদ্রাসার পরিচালনা
কমিটির সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদার ও মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সফিকুল ইসলামসহ শিক্ষক আবু সাঈদ আবেদন কারি মোসাঃ লুৎফা বেগম এর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলাদাভাবে অগ্রিম ০২-০৭-২০১৮ ইং তারিখ সকাল অনুমান ৯.০০টার দিকে আমার বসত ঘরের সামনের বারান্দায় বসিয়া ২লাখ টাকা
নেয়। মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার দ্বিতীয় বার সকালে আরো ১লাখ টাকা লাগবে বলে
দাবী করে ঐ দিনই গত ১ নভেম্বর -২০১৯ইং তারিখে বিকালে ১লাখ টাকা নগদ প্রদান করি।
আবেদনকারী মোসাঃ লুৎফা কে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলাদাভা অগ্রিম টাকা গ্রহন করেন বলে আবেদনকারীদের অভিযোগে ও অডিওতে জানা গেছে।
অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদার ও মাদ্রাসার শিক্ষক
আবু সাঈদ খা, ও আবেদনকারী মোসাঃ লুৎফা বেগম তার এক অভিভাবকসহ দুই জনের সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে দরদাম করছেন।
সেখানে সভাপতি কামাল তালুকদার ও শিক্ষক আবু সাঈদ খা ০৩ লাখ টাকা হলে চাকরি দেবেন মর্মে জানান এবং
প্রার্থী পরিচিত বলে কিছু টাকা ছাড় দিয়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেন। ৩ লাখ টাকা দাবী করলে সম্পূর্ন টাকা জমা দিয়ে রেখেছেন, এমনটাও উল্লেখ করেন তিনি।
সভাপতি তাদের জানান, চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার, ডিজির প্রতিনিধি, সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি খরচ, ম্যানেজিংকমিটির অন্যান্য সদস্যকে ম্যানেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ঢাকায় মোটা অংকের টাকা প্রদান করা বাবদ প্রায় ২-৩ লাখ টাকা খরচ হয়।
কিন্তু মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার একেকটি পদের জন্য ৩ লাখ টাকা করে নির্ধারণ
করে ১জনের আবেদনকারীর কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েও তাদের এখন চাকরি না
দিয়ে সভাপতির এক আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন বলেও আবেদনকারীদের অভিযোগ।
চাকরি প্রত্যাশী মোসাঃ লুৎফা বেগমের স্বামী মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রীর জন্য আমি মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদার ও সুপার সফিকুর রহমানের কাছে গিয়েছিলাম। তারা আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে ইতোমধ্যে ৩লাখ টাকাও নিয়েছেন। আমার ছোট একটি চায়ের দোকানের ব্যবসার পুঁজি দিয়ে, জমি ও গরু বিক্রি করে তাদের টাকা দিয়েছি।
 যে অডিও রেকর্ড শোনা যাচ্ছে সেখানে আমাদের সঙ্গে তার কথা হয়। তাকে অনুরোধ করলেও তিনি ৩ লাখের ১টাকা কম দিলে নিয়োগ হবে না বলে জানান। এমন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
আমার মতো আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তারা টাকা নিয়েছে, এখন শুনছি
অন্যজনকে নিয়োগের পক্রিয়া চলছে।
এদিকে গোলখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও গলাচিপা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নিয়োগের নামে বড়গাবুয়া এলেমাবাদ সালেহীয়া দাখিল মাদ্রাসার এমন বাণিজ্য আসলে দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
নিয়োগ বাণিজ্যের  বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ কামাল তালুকদারের সঙ্গে মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সফিকুর রহমান   ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলে রাজি হয়নি।
গালাচিপা  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা বলেন, অডিও রেকর্ড ফাঁসের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং এটা অত্যান্ত দুঃক্ষজনক । তবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা অফিসের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। এছড়া ডিজি অফিস কাকে নিয়োগ দেবে সেটা তাদের বিষয়। তবে ডিজি অফিস যদি মাধ্যমিক  শিক্ষা অফিসকে নিয়োগের বিষয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় তাহলে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
Ads
আরও পড়ুন
Loading...